নানা অনিয়মে মোংলার রাতুল ক্লিনিককে অর্থদণ্ড, ভোলপাল্টে চলছে অবৈধ ক্লিনিক ব্যাবসা
01/01/1970 12:00:00মাসুদ রানা,মোংলা
নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগে মোংলার রাতুল ক্লিনিককে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রবিবার বেলা ১১টার দিকে পৌর শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়কের রাতুল ক্লিনিকে অভিযান চালায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আক্তার সুমি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন। এ সময় অভিযানকারীরা ক্লিনিকে ব্যাপক অনিয়ম খুঁজে পান। সেই সব অনিয়মের অভিযোগে ক্লিনিকটিকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া প্রাথমিকভাবে সতর্ক করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতে সময়সীমাও বেধে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আক্তার সুমি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন বলেন, রাতুল ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন নেই, নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চুক্তিও, নেই নারকোটিক পারমিশন ও ড্রাগ লাইসেন্স। এসব অনিময়ের মধ্যদিয়ে দীর্ঘদিন এ ক্লিনিকটি পরিচালিত হয়ে আসছে। এতসব গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র না থাকায় ক্লিনিক মালিক জোহরা খাতুনকে জরিমানা করা হয়েছে। আর এসব কাগজপত্র আপডেট করার জন্য ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট এ সময়ের মধ্যে কাগজপত্রের শর্তাদি পূরণে ব্যর্থ হলে রাতুল ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া এর আগে গত ২০ নভেম্বর ক্লিনিকটি পরিদর্শন করে সেবার মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করেনি ক্লিনিকটি।
স্থানীয় বাসিন্দা সুরজিৎ মন্ডল ও মনির শিকদার বলেন, রাতুল ক্লিনিকে চরম অনিয়ম চলে। এখানে সিজারের যে-সব রোগী আসে, তাদের কাছ থেকে গলাকাটা টাকা আদায় করে। কোনো নির্দিষ্ট অ্যামাউন্ট নেই, যার কাছ থেকে যা নিয়ে পারে। কারো কাছ থেকে ২০ হাজার, কারো কাছ থেকে ২৫/৩০ হাজার করে টাকা নিয়ে থাকে। এতে রোগীরা হয়রানি ও প্রতারিত হচ্ছে। সিজার রোগীর জন্য একটি নির্দিষ্ট অ্যামাউন্ট থাকা প্রয়োজন।
স্থানীয় ফার্মেসি মালিক সুব্র মন্ডল বলেন, ড্রাগ লাইসেন্স না থাকলেও নিয়মিত ওষুধ বিক্রি করে আসছে রাতুল ক্লিনিক, এটা তো অনিয়ম। কারো লাইসেন্স থাকবে কারো থাকবেনা সেটা তো হয় না।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, রাতুল ক্লিনিকে বিভিন্ন অপারেশন করে থাকে, কিন্তু সব সময় ডাক্তার থাকেনা। এতে তো ভর্তি রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষায় অতিরিক্ত টাকা নেয়। পরীক্ষানিরীক্ষার রিপোর্টও ভুলভাল হয় দেখেছি। এ নিয়ে হট্টগোলও ঘটে প্রায়ই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এতসব অনিয়মের মধ্যদিয়ে রাতুল ক্লিনিক বহাল তবিয়তে রয়েছে। কারণ রাতুল ক্লিনিকের মালিক জাহাঙ্গীর সব সময় রাজনৈতিক শেল্টারে থাকেন। এর আগে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে ক্লিনিক ব্যাবসা পরিচালনা করেন। আর ৫ আগস্টের পর তিনি ভর করেছেন অন্য রাজনৈতিক দলের উপর। এখন তাদের ছত্রছায়ায় চলছে রাতুল ক্লিনিকের অনিয়ম বাণিজ্য।
