মোংলা পৌর কসাইখানা: দুর্গন্ধে ভরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস প্রস্তুত, ভোগান্তিতে কসাই ও ক্রেতারা
01/01/1970 12:00:00মোংলা প্রতিনিধি
মোংলা পোর্ট পৌরসভার কসাইখানা বর্তমানে চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিণত হয়েছে। ভাঙাচোরা ঘর, উড়ে যাওয়া টিনের চালা, ড্রেনেজব্যবস্থার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি—এসবের মাঝেই প্রতিদিন জবাই করা হচ্ছে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ। চারপাশে জমে থাকা পচা মাংস ও রক্তে জন্মেছে অসংখ্য পোকামাকড়। সেই নোংরাই বাজারে মাংস হিসেবে পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের ঘরে, যা জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
কসাইরা জানান, জবাইকৃত পশুর ভুঁড়ি, চামড়া ও অন্যান্য বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলে রাখা হয়। জায়গাজুড়ে দুর্গন্ধে মানুষ দাঁড়াতেও পারে না। সড়কজুড়ে কুকুরের অবাধ বিচরণ আর কাকের ঝাঁক লেগেই থাকে। এমন পরিবেশে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও হয় না পশুর।
এখানে প্রায় ৬০ জন কসাই রয়েছেন। সপ্তাহের চার দিন জবাই হয় পশু। প্রতিদিন ৫০-৬০টি গরু-মহিষ ও ২০-২৫টি ছাগল-ভেড়া জবাই করা হয়। পৌরসভাকে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করলেও সেবা পান না বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
মোংলা মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন—
“এটি একটি আন্তর্জাতিক বন্দরনগরী। বিদেশি নাবিক ও পর্যটকেরাও আসেন। কসাইখানার বাস্তব পরিবেশ দেখলে কেউই মাংস খেতে চাইবে না। বহুবার দাবি করেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি।”
স্থান সংকট, পানির অভাব ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার কারণে কসাইদের কষ্ট যেন নিয়ত সঙ্গী।
মোংলা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী জানান—
“কসাইখানার অবস্থা বিবেচনা করে নতুন একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ, উন্নত ড্রেনেজ ও পানির ব্যবস্থা করার একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। কাজ শেষ হলে এই ভোগান্তি থাকবে না।”
১৯৭৫ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেকবার প্রশাসনের পরিবর্তন হলেও কসাইখানার উন্নয়ন হয়নি। তাই অবশেষে আধুনিক ও মানসম্মত কসাইখানা নির্মিত হবে—এমনটিই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
