চরম বিশৃঙ্খলা’র মধ্যে ১৩ হাজার শিশু শিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ, শিক্ষকদের পরীক্ষা বর্জন
01/01/1970 12:00:00চিতলমারী প্রতিনিধি
চরম বিশৃঙ্খলা ও অবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ১৩ হাজার শিশু শিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষক, অফিস সহায়ক ও অভিভাবকরা এ পরীক্ষা গ্রহণ করেন। এদিন প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ইংরেজী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার পশ্ন পত্র না বুঝতে পেরে বিড়ম্বনায় পড়েন।
উপজেলার ১১১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪৮৫ জন সহকারি শিক্ষক তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন (বার্ষিক) পরীক্ষায় না নিয়ে ৩ দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষে কর্মবিরতি করার জন্য বিশৃঙ্খলা ও অবস্থাপনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় পরীক্ষার অভিভাবক মহল চরম ভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস জানান, এ উপজেলায় ১১১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৮৫ জন সহকারি শিক্ষক রয়েছেন। এখানে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হয়। গতকাল শিক্ষকদের পরীক্ষা বর্জনের পত্রটি পেয়ে প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহায়কদের পরীক্ষা গ্রহণ করতে বলা হয়। তারা যথা নিয়মে পরীক্ষা গ্রহন করছেন।
বাংলাদেশ সহকারি শিক্ষক সমিতি চিতলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি কাজী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘শাহাবাগের কর্মসূচিতে পুলিশের বর্বরোচিত নির্মম জল কামান ও সাউন্ড গ্রেনেডের হামলায় শতাধিক শিক্ষক আহত এবং ফাতেমা নামে একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। তিন দফা আমাদের প্রাণের দাবী। সহকারি শিক্ষকরা কর্মবিরতি করছেন। দাবী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না।’
শিক্ষার্থী অভিভাবক লিজা বেগম ও নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সহকারি শিক্ষকদের এ সিদ্ধান্তে চরম বিশৃঙ্খলা ও অবস্থাপনা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা পরীক্ষার পরে এ সিদ্ধান্তে যেতে পারতেন।’
