Logo
table-post
ফকিরহাটে পানের বাজারে ব্যাপক দরপতন, ক্ষতিগ্রস্ত পান চাষিরা
01/01/1970 12:00:00

পি কে অলোক,ফকিরহাট
বাগেরহাটের ফকিরহাটে পানের বাজারে ধস নেমেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন পান চাষিরা। একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি অন্যদিকে পানের দাম কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে পান চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন তাঁরা। অনেকে বরজ ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন কৃষকেরা। 


উপজেলার টাউন নওয়াপাড়া, চুলকাঠি, ফকিরহাট সদর ও মানসা বাজার ঘুরে পানের দরপতনের এই চিত্র দেখা গেছে। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ বাড়লেও দাম কমে অর্ধেকে নেমেছে। এতে প্রায় এক তৃতীয়াংশ চাষি পেশা ছাড়ছেন বলে চাষীরা জানান।  

ফকিরহাটে অবস্থিত দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ টাউন নওয়াপাড়া (ঘোষের হাট) পানের হাটে সপ্তাহে রবি ও বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত পান বিক্রি হয়। প্রতি হাটে এখানে গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার কুড়ি (এক কুড়িতে ৫১২০টি পান) বিক্রি হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে (২৭ নভেম্বর) টাউন নওয়াপাড়া পানের হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা বিক্রেতাদের কর্মব্যস্ততা। চাষীদের তিন ধরনের (গ্রেড) পান কিনছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারী ক্রেতারা। প্রতিকুড়ি (৫১২০টি) বড় পান ৮ থেকে ১১ হাজার টাকা, মাঝারি পান ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা এবং ছোট পান ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কুচা পান কেউ কিনছেন। হাটে পাইকার গতবছরের তুলনায় অনেক কম দেখা গেছে। 

কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, গতবছর একই সময় প্রতিকুড়ি বড় পান ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা, মাঝারি পান ১০ থেকে ১৩ হাজার টাকা এবং ছোট পান ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কুচা পান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। 

উপজেলার শামবাগাত গ্রামের পান চাষী আবু সাইদ, বালিয়াডাংগা গ্রামের আজাহার শেখ, পিলজংগ গ্রামের মামুন সরদার, টাউন নওয়াড়া গ্রামের নিতাই বাগদী সহ কয়েকজন কৃষক জানান, গতবছরের চেয়ে এবছর বরজের কাজে ব্যবহৃত উলু, সলাকা, হাড়ি (বর্গা জমি) খরচ, খৈল ইত্যাদির দাম প্রায় দেড়গুণ বেড়েছে। অন্যদিকে পানের দাম গতবারের চেয়ে অর্ধেকের কম। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে তারা পান চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। উপজেলার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ কৃষক পান চাষ ছেড়ে বিকল্প চাষের দিকে ঝুঁকছেন বা পান চাষে জমির পরিমান কমিয়ে দিয়েছেন। 

পান চাষী সনাতন দাস, জামাল শেখসহ অনেকে জানান, বরজে ছোট ও কুচা পান নষ্ট হচ্ছে। শ্রমিকের দাম উঠবেনা বলে তারা না কেটে ফেলে রেখেছেন। পান বরজেই নষ্ট হচ্ছে। মূলত রপ্তানি ও পাইকার কর্তৃক পান ক্রয় কমে যাওয়ায় পানের বাজারে ধ্বস নেমেছে। এতে হতাশ চাষিরা বরজ করা বন্ধ করে দিয়েছেন। 

একাধিক পাইকারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এ হাট থেকে পান নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে বিক্রি করেন। কিন্তু এবছর ঐসব মোকামে পানের চাহিদা কম। বিদেশে রপ্তানীতের ভাটা লেগেছে। ফলে তারাও পান কিনতে আগ্রহ কম দেখাচ্ছেন।

ফকিরহাট কৃষি অফিসের তথ্য মতে, উপজেলায় এবছর ৪ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন পান উৎপাদন হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে কিছুটা বেশি। ১ হাজার ১১২ একর জমিতে ছোট বড় মিলে ৩ হাজার ৯০০টি পানের বরজ রয়েছে। ফকিরহাটে ৩ হাজার ১৫০ জন কৃষক পান চাষ করেন। তবে পান চাষ ও বিপননের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পান চাষের সর্বোচ্চ উৎপাদনের সময় হলো জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। এসময় সাধারণত পানের দাম কম থাকে। কিন্তু এবছর নভেম্বর মাসেও পানের দাম তুলনামূলক কম। পান চাষে কৃষকদের প্রণোদনা সহায়তার কোন প্রকল্প ফকিরহাটে নেই। তবে কৃষি অফিস থেকে তাদের পান চাষের বিষয়ে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়।  


বাগেরহাট জেলা কৃষি বিপনন কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম তরফদার বলেন, ‘বিদেশে পান রপ্তানী কমে যাওয়া, উৎপাদন বৃদ্ধি, পান ক্রয়ের পাইকার কম, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস সহ বিভিন্ন কারণে পানের দাম কমতে পারে। এটি শিল্প পণ্য না হওয়ায় অতটা ফোঁকাস পাচ্ছে না। 

 

@bagerhat24.com