ফকিরহাটের গাবখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়েই চলছে পাঠদান
01/01/1970 12:00:00ফকিরহাট প্রতিনিধি
ফকিরহাটের বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী গাবখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন এখন জরাজীর্ণ, তারপরেও চলছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৩’শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। শুধু তাই নয়, সম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী ভূমিকম্পে ঝুকিপূর্ণ এই ভবনটির বেশ কয়েক জায়গায় বড়বড় ফাটল ধারায় শিক্ষক শিক্ষার্থীরা রয়েছেন চরম আতংকে। অতিদ্রæত একটি বহুতল বিশিষ্ট একাডেমিক নতুন ভবন নির্মাণ করার জন্য স্থানীয়রা উর্দ্ধতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা গেছে, ১৯৬৮সালে গাবখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্টা করা হয়। প্রতিষ্টাকালিন সময়ে এলাকার বেশ কয়েকজন শিক্ষানুরাগী এই একাডেমিক ভবনটি নির্মাণ করেন। যে ভবনটি পরবর্তিতে একতলা থেকে দ্বীতল ভবনে উন্নত করা হয়। যা দিয়েই চলছিল শিক্ষার্থীদের পাঠদান। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, সেই ভবনটির উপরের অংশের অধিকাংশ স্থানে প্লাষ্টার খসে খসে পড়ছে অহরহ। তার পরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। এই ঝুকিপূর্ণ ভবনের ব্যাপারে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ৪ঠা আগষ্ট ২০২৫ইং তারিখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং মাউসি’র ডিজি মহোদয়ের সুপারিশকৃত আবেদনপত্রটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর-২০২৫ ই্ং তারিখে প্রধান প্রকৌশলী ঢাকার বরাবরে জমা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, প্রায় অর্ধশত বছরের পুরাতন ঐ ভবনে চলছে ৩’শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। বহু পুরাতন এই ভবনের উপরের বেশ কিছু অংশের প্লাষ্টার খসেখসে পড়ায় কেউ কেউ সামান্য আহতও হয়েছেন। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম আতংকের মধ্যেও পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী ভূমিকম্পে ঝুকিপূর্ণ ঐ ভবনটির বেশ কয়েক জায়গায় বড় আকারের ফাটল ধারায় তাঁরা আরো আতংকিত হয়ে পড়েছেন।
এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলাম এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, সাতবাড়িয়া, হুচলা, লালচন্দ্রপুর, বড়বাড়িয়া, বৈলতলী, টাউন নওয়াপাড়া, খাজাডাঙ্গা, লখপুর ও বাঐডাঙ্গা সহ প্রায় ৭/৮টি গ্রামের শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। তাছাড়া উপজেলার ৩৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে তারা সরকারী জরিপ অনুযায়ী শিক্ষার্থী, বোর্ড পরিক্ষা ও কারিকুলার এ্কটিভিটিজ সব মিলিয়ে ৬ষ্ট স্থানে রয়েছে। সেই হিসাবে ৩’শতাধিক শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য বাড়তি কোন ভবন না থাকায় গাদাগাদি করে ক্লাস করাতে হিমসীম খেতে হচ্ছে। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য তিনি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
