ফকিরহাটে ৫’শ বছরের পুরাতন পাতাল জোড়া শিব মন্দির: দ্রুত সংস্কারের দাবী
01/01/1970 12:00:00পি কে অলোক,ফকিরহাট
ফকিরহাটের পিলজংগ গ্রামের ৫’শত বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী পাতাল জোড়া শিব মন্দিরটি এখন অযন্তে আর অবহেলায় কালের সাক্ষ্যি হিসাবে দন্ডায়মান রয়েছে। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও সরকারী ভাবে এটি মেরামত বা সংস্কার না করায় এলাকার একটি কুচক্রি মহল মন্দিরের সুড়ঙ্গ দিয়ে পাতাল শিব মন্দিরের ভিতরে প্রবেশের জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যারই অংশ হিসাবে ঐ কুচক্রি মহলটি সুড়ঙ্গের ভিতরে থাকা মূল্যবান সম্পদ লুটের জন্য সুড়ঙ্গের মাটি সরিয়ে সেখানে ভিতরে প্রবেশের জন্য রাস্তা বানানোর জোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ বিষয়টি দ্রæত তদন্ত করে ঐতিহ্যবাহী ঐ পাতাল জোড়া শিব মন্দিরটি রক্ষার জন্য স্থানীয় সনাতনীরা উর্দ্ধতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার পিলজংগ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের উত্তর পশ্চিমকোনে ৫নং ওর্য়াডের ভিতর প্রায় ৫’শত বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী একটি পাতাল জোড়া শিব মন্দির রয়েছে। যে মন্দিরটির বয়স প্রায় ৫’শত বছর হবে বলে অনেকে ধারনা করেন। ঐ মন্দিরে প্রবেশ মুখে বড়বড় দুটি শিব মন্দির রয়েছে। যেটিতে স্থানীয় সনাতনীরা বিভিন্ন তৃথীতে পূজা অর্চনা করে থাকেন। গত তিন বছর পূর্বে মন্দিরটিতে প্রবেশের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ৪০দিনের কর্মসূজন কর্মসূচির বরাদ্ধে যাতাযাতের রাস্তাটি মেরামত ও তার ভিতরে জমে থাকা জঙ্গল পরিস্কার করেন। আর এই জঙ্গল পরিস্কার করার ফলে সেখানের নামডাক চতুরদিকে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় সনাতনীরা সেখানে অবস্থিত শিবলিঙ্গে শিবরাত্রির পূজা সহ নানা পূজা অর্চনা করেন।
স্থানীয়রা বলেছেন, যেহেতু এই মন্দিরটি ৫’শত বছরের অনেক পুরানো। সেই হিসাবে এর ভিতরে অথাৎ পাতালে ২/৩টি আলাদা আলাদা রুম থাকতে পারে। এবং সেই রুমের মধ্যে পুরাতন অনেক ধন-সম্পদ (সোনার থালা বাসন পাজাল প্রদ্বিপ বা কষ্টি পাথরের মূর্তি) থাকতে পারে এই আসায় ঐ কুচক্রি মহলটি সুড়ঙ্গে মাটি সরিয়ে ভিতরে প্রবেশের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ঐ কুচক্রি মহলটি ইতিমধ্যে কুদাল সাবল বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি দিয়ে সুড়ঙ্গের মাটি সরিয়ে তার ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে।
স্থানীয় একটি মন্দির কমিটির সাধারন সম্পাদক বলাই কুমার দাশ সহ একাধিক ব্যক্তিরা জানান, তিনি ও তারা তাদের দাদু এবং লোকমুখে শুনেছেন, তৎকালিন সময়ে একদল ডাকাত এই জোড়া শিবমন্দির তৈরী করে সেখানে নানাধরনের পূজা অর্চনা করতেন। পরবর্তিতে সেই ডাকাতরা সেখানে দীর্ঘকাল পূজা অর্চনা শেষে মন্দিরটি স্থানীয় বিধুভুষন চক্রবর্তী নামের জনৈক ঠাকুরমহাশইকে দান করে যান। তিনি ও তার পূর্বপুরুষগণেরা এখানে পূজা অর্চনা করতেন। পরবর্তিতে দেশ ভাগের আগেই তারা ভারতে চলে যান। সেই হতে এটি পরিত্যাক্ত এমনকি কোন সরকার মেরামত বা সংস্কার পর্যন্ত করেন নী
সরেজমিনে ঐ শিব মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, মন্দিরে প্রবেশের মূল গেটে বৃহৎ আকারের ডান বামে দুটি শিব মন্দির রয়েছে। যার মধ্যে দুটি শিব লিঙ্গও রয়েছে, সেখানে স্থানীয় সনাতনীরা পূজা করেন। এরপর কিছুদুর এগিয়ে যেতেই উত্তর পার্শ্বের উচু করে আরো একটি চুড়ার মত কিছু একটা দেখা যাচ্ছে। যেটির প্রায় ১৫ফুট উপরে উঠলে পশ্চিমপার্শ্বের একটি সুড়ঙ্গ রাস্তা দেখা যাচ্ছে। যা দিয়ে কিছুদুর দেখা গেলেও অন্ধকারে তার ভিতরে কিছুই দেখা যায় না।
স্থানীয় পলাশ কুলু, লক্ষন দাশ, সত্যদাশ ও নিপ্পন রাহা সহ বেশ কয়েকজন যুবক জানান, একটি কুচক্রি মহল মন্দিরের ভিতরে প্রবেশের জন্য (মূল্যবান সম্পদ পাওয়ার লোভে) সুড়ঙ্গের ভিতর জমে থাকা বিপুল পরিমানে মাটি কেটে তা সরিয়ে ফেলছে। এমন খবর শুনে তারা সুড়ঙ্গের মুখে দেওয়া পুরাতন ইট সরিয়ে ভিতরে কিছুটা প্রবেশ করেছেন। এবং সেখানে গিয়ে দেখেন সুড়ঙ্গের মধ্যে শিবের ১টি তীরসূল, ১টি কোদাল, ৩টি বালতি ও ১টি সাবল রয়েছে। যা কুচক্রি মহলটি রেখে গেছে। তারা প্রতিরাত্রে সুড়ঙ্গ দিয়ে প্রবেশ করে ভিতরে থাকা বিভিন্ন রুমে প্রবেশের জন্য মাটি সরাচ্ছে। তাদের ঐ চক্রটি গুপ্তধন বা ধন-সম্পদ পাওয়ার (লোভে) আসায় এই কাজটি করছে।
স্থানীয় কয়েকজন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা জানান, তারা তাদের দাদা-দাদু বা বয়োজেষ্ঠ্যদের মুখে শুনেছেন, এই পাতালে থাকা জোড়া শিবমন্দিরে বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা অর্চনা করা হতো। সেই সময়ে পাতালে তিনটি রুম ছিল সেখানে বিভিন্ন দেব-দেবির মূতিও ছিল। সে সময়ে এই পিলজংগ ইউনিয়নে ৩৬০ঘর শুধু পুরাহিত বসবাস করতেন। তারা দেশ ভাগের আগেও এখানে দীর্ঘকাল পূজা অর্চনা করেছেন। সেই সময়ে নাকি নরবলিও দেওয়া হতো বলেও প্রচার রয়েছে। এধরনের একটি ঐতিহ্যবাহী জোড়া শিব মন্দির দ্রæত সংস্কার বা মেরামত করার জন্য স্থানীয় সনাতনীরা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
