মোরেলগঞ্জে ৯৩ জনের প্রাণহানির ১৮ বছর পরও নির্মাণ হয়নি শহর রক্ষার বেড়িবাঁধ
01/01/1970 12:00:00মশিউর রহমান মাসুম, মোরেলগঞ্জ
২০০৭ সালে ১৫ নভেম্বর রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় উপজেলা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আঘাত হানে সাইক্লোন সিডর। নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা সাইক্লোন শেল্টার না থাকা ও মানুষের সচেতনতার অভাবে ভয়ংকর ওই ঘূর্ণিঝড়ে মোরেলগঞ্জে ৯৩ জন মানুষ নিহত হন। মোংলা সমুদ্র বন্দরের পার্শ্ববর্তী এ উপজেলার মানুষ ওই রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিপদ সংকেত গুরুত্বসহকারে না নিয়ে নদীর তীরবর্তী অধকাংশ মানুষ যে যার বসতিতে থেকে যায়। এর ফলে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের সাথে স্বাভাবিকের চেয়ে ৮ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছাসে শতশত মানুষ তাদের বসতিসহ ভেঁসে যায়। অনেকে আর ফেরিনি। পরদিন ৮ নভেম্বর অনেকের মরদেহ পাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে গাছপালার সাথে, মাঠে, জঙ্গলে। কারো কারো মরদেহ কয়েকদিন পরে নদী ও খাল বিলে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।
সরকারি হিসেবে এ উপজেলায় ওই ঝড়ে ৯৩ জনের প্রানহানি ঘটে। ওই সময় এ এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র ছিলোনা। সিডরের পরে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগে বেশ কিছু আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও মূল সমস্যার কোন সমাধান হয়নি। পানগুছি নদীর দুই পাড়ে থাকা গ্রামগুলির মানুষদের নিরাপত্তা ও জীবনমানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নদী শাসন ও টেকসই বেড়িবাঁধ। ভূক্তভোগীরা এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে দাবি জানালেও কর্তৃপক্ষ আজ অবধি কার্যকর কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করতে পারেননি।
নদীরতীরবর্তী বলইবুনিয়া দোনা গ্রামের রাজিয়া বেগমের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম তিনি বলেন, একমাত্র ছেলে রিয়াজুল ইসলাম মোল্লা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফেরেনি। পরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। রিয়াজুল ১ মাস ২২ দিন বয়সী পুত্র সন্তান রেখে গেছে। সিডরে পিতৃহারা সেই শিশু সিয়াম এখন এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র।
সিডরের জলোচ্ছাসে ভেসে গিয়ে নিহত হন এ গ্রামের একই পরিবারের ৩ জন নিহত। তারা হলেন, নূর মোহাম্মদ মোল্লা, তার স্ত্রী জহুরা বেগম ও ছেলে সেলিম মোল্লা। ঝড়ের রাতে তারা ঘরেই অবস্থান করছিলো। হঠাৎ পানির চাপ দেখে সাইক্লোন শেল্টারে যাওয়ার পথিমধ্যে পানির স্রোতে তারা ভেসে যায়। ঝড়ের ৩দিন পরে ধান ক্ষেতে পাওয়া যায় তাদের মরদেহ।
ওই পরিবারের সদস্য ছোট ছেলে আলিম মোল্লা পুলিশ সদস্য হিসেবে ঢাকায় কর্মরত। মেয়ে বিউটি আক্তার খুলনায় স্বামীর বাড়িতে রয়েছেন। সেদিন কালিকাবাড়ি গ্রামের প্রতিবন্ধী শিপলু শেখ, সবুজ শেখ, কাষ্মির এলাকার আব্দুল মান্নান শেখ সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফেরেনি। ভূক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ভেড়িবাঁধ না থাকায় প্রানহানি ঘটেছে অনেকের।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা পানিউন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মদ আল বিরুনী বলেন, মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ইতোমধ্যে পানগুছি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬শ’ ৫০ কোটি টাকার ভেড়িবাঁধের কাজ চলছে। ২০২৩ সালে খাউলিয়া থেকে ফেরীঘাট পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার এবং শ্রেনীখালী এলাকায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় কয়েকটি স্পটে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে কাজ চলমান থাকবে।
