Logo
table-post
মোংলায় কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধি, আতংকে স্থানীয়রা
01/01/1970 12:00:00

মাসুদ রানা,মোংলা 

মোংলায় পৌর শহরের  বিভিন্ন পাড়া মহল্লার ওলি গলির মাথায় ক্ষ্যাপা পাগলা কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপক হারে। এই পাগলা কুকুর পথযাত্রীদের চলার পথে দেখলেই তেড়ে আসে। ফলে পথযাত্রীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে। দিনের চেয়ে রাতে বেশী উপদ্রব করে কুকুরের দলগুলো। মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিলছে না ভ্যাকসিন। 

এবিষয়ে মোংলা পৌরসভার পক্ষে জানায়  কুকুর নিধনের সুযােগ নেই। ক্ষ্যাপা পাগলা কুকুরের হাত থেকে বাঁচতে উপায় জনসচেতনতার বিকল্প নেই। 

মোংলা  কবর স্থান  রোডের বাসিন্দা ওহিদুল ইসলাম  জানান, আমি একজন  ব্যবসায়ী। রাত ১০ টা থেকে ভোর ৬  টা পর্যন্ত  শহরের বিভিন্ন মোড়ের মাথায় প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ বা ৭/৮ টির একটি দলের  ক্ষ্যাপা, পাগলা কুকুর তেড়ে আসে কামড়াতে। এসময় কৌশলে কুকুরের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে বাসায় ফিরি। প্রতিদিনই এরকম ঘটনা ঘটে। আমি এবং আমার মত অনেকেই কুকুরের তাড়া খেয়ে খুবই আতংকের মধ্যে আসা যাওয়া করে।

মোংলা ময়লা পোতার মোড়ের   বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম   অভিযােগ করে বলেন,  রাত ১১ টার দিকে পাগলা কুকুরের তাড়া খেয়ে খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। ভাগ্যিস দৌড় না দিয়ে হাতে থাকা বাসার জন্য নেয়া  পাউরুটির ২ পিস ছুড়ে দিয়ে কৌশলে পালিয়ে আসি। 

শহরতলীর কেওড়াতলা এলাকার  বাসিন্দা মুরাদ  অভিযােগ করে বলেন, গত কয়েকদিন রাত ১২ টার দিকে  মোংলা কবর স্থান রোড, বান্ধাঘাটা, শ্রমিক সংঘ এলাকা  দিয়ে মােটরসাইকেলে রুগি দেখতে মোংলা হাসপাতালে যাই। এসব মোড়ে থাকা কুকুরের দলের মধ্যে  কয়েকটি পাগলা কুকুর আমাকে তাড়া করে। অল্পের জন্য কুকুরের কামড়েরর হাত থেকে রাক্ষা পেয়েছি।

মোংলা পৌর শহরজুড়ে রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে কুকুরের উপদ্রপ কয়েক গুন বেড়েছে। বাচ্চাদের একাকী রাস্তায় যাওয়া এখন আতংকের। রাতে গরু ছাগল গোয়ালে ফিরতে পারে না কুকুরের জ্বালায় । কুকুরের দল গুলো পোষা গরু ছাগলদের  ঘিরে ধরে ঘেউ ঘেউ ডাক দিয়ে আটকে রাখে। 

মোংলায় রাতে একাকী যে কোন প্রয়োজনে ঘর থেকে বাহির  হতে ভয় লাগে কুকুরের আতংকে। রাত বিরাতে ওসুধ বা যে কোন জিনিসের প্রয়োজনে বাজার  হোটেল বা ওসুধের দোকানে যাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ছে দিন দিন। 

মোংলা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ শাহিন  বলেন, ক্ষ্যাপা-পাগলা কুকুরে যদি কাউকে কামড়ায় তাহলে নিদৃষ্ট সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন দিলে সমস্যা হবে না। কিন্তু কুকুরে কামড়ানো রুগীর নিদৃষ্ট সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন না দিলে জলাতঙ্ক রোগ দেখা দিতে পারে। আর জলাতঙ্ক রােগ হলে ওই রুগীর মৃত্যু নিশ্চিত। তবে মোংলা হাসপাতালে ভ্যাকসিনের কোন ব্যাবস্থা নেই।

চলতি  মাসের ১ তারিখ থেকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ আছে। আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আগে আমারা Rabies Vaccine (রেভিস ভ্যাকসিন) সরবরাহ পেতাম বছরে প্রায় ১২শ থেকে -১৪শ ভায়াল। এখন সরবরাহ না থাকায় আমরা ভ্যাকসিন দিতে পারছি না। আবারো সরবরাহ পেলে ভ্যাকসিন প্রদান শুরু হবে। বলে জানায় হাসপাতাল প্রধাণ ডাঃ শাহিন। 

জানতে চাইলে মোংলা পৌর কতৃপক্ষ  বলেন, ক্ষ্যাপা-পাগলা কুকুরের হাত থেকে বাচাঁর একমাত্র পথ হচ্ছে জনসচেনতা। যারা কুকুর পোষে ও কুকুর পালনকারীদের জনসচেনতার মাধম্যে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের এব্যাপারে সচেতন হয়ে যাতে রাস্তায় যেয়ে পথযাত্রীদের ভিতরে ভীতির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। ঢাকা হাইকোর্টের একটি রিটের আদেশ আছে, কুকুর নিধন না করতে। এছাড়া কুকুরে কামড়ালে জনসাধারণকে বাঁচাতে পৌরসভার মাধ্যমে ভ্যাকসিনের আপাতত কোন ব্যাবস্থা নেই। মূল কথা কুকুর পালনকারীদের জনসচেনতার মাধম্যে এগিয়ে আসতে হবে।

মোংলা পোর্ট পৌর সভার স্বাস্থ্য সহকারি মোঃ মাসুদ আলম বলেন, বহু বছর ধরে মোংলা পোর্ট পৌরসভায় কুকুরের ভ্যাকসিন সেবা বন্ধ রয়েছে। 

বাগেরহাট সদর  পৌরসভার স্যানেটারি ইন্সপেক্টর  এস এম বাদল  বলেন, , মোংলা পৌরসভায়  প্রায় ৫/৭ বছর ধরে ভ্যাকসিন সেবা বন্ধ রয়েছে। আগে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ভ্যাকসিন বরাদ্দ হতো পৌরসভার জন্য ।উপজেলা ও পৌর প্রশাসন ভ্যাকসিন গুলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জমা দিতো  যাতে কুকুরে কামড়ানো ব্যাক্তিদের  ফ্রি ভ্যাকসিন সেবা  পেতে পারে ।

তিনি আরো বলেন, আগের ভ্যাকসিন গুলো নাভিতে দিতে হতো আর বর্তমান উন্নত ভ্যাকসিন নাভিতে দেয়া লাগে না। কুকুরে কামড়ালে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে বাজার থেকে কিনে ৪ ডোজে দেয়া হয়। যার বাজারমুল্য প্রায় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার  টাকা। 
আর সরকারি ভ্যাকসিন গুলো আক্রান্ত ব্যাক্তিদের ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে দেয়া হয়। 

এস এম বাদল এর আগে মোংলা পোর্ট পৌরসভার  স্যানেটারি ইন্সপেক্টর হিসাবে কর্মরত ছিলেন। 

মোংলা পোর্ট পৌর  সভার মাধ্যমে শহরের বেওয়ারিশ  কুকুরগুলোকে জালে আটকিয়ে কুকুরকে  ভ্যাকসিন পুশ করে  তাদের গাঁয়ে লাল রং দিয়ে দেয়া হতো যাতে কামড়ালে জলাতঙ্ক রোগ থেকে রেহাই পায় সাধারণ জনগন। সেই এ্যান্টি রেভিস ভ্যাকসিন এখন বন্ধ রয়েছে। এই এ্যান্টি রেভিস ভ্যাকসিন কুকুকের শরীরে দিয়ে জলাতঙ্ক রোগ মুক্ত করা হতো। কুকুরদের দ্বারা জলাতঙ্ক, ক্যানাইন,ডিসটেম্পার,পারভোভাইরাসের মতো মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। 

 

@bagerhat24.com