রামপালে দুইটি পাবলিক শৌচাগার দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ
01/01/1970 12:00:00এম. এ সবুর রানা,রামপাল
রামপাল উপজেলা সদরের খেয়াঘাটে ও পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে মোট ২৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ৯১১ টাকা ব্যায়ে নির্মিত দুইটি পাবলিক শৌচাগার দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকায় তা কোন কাজেই আসছে না। পথচারীদের স্যানিটেশনের সুবিধার্থে টয়লেট দুইটি নির্মাণ করা হয়। পাবলিক টয়লেট দুটি নির্মাণে এত টাকা ব্যায় করা হয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শৌচাগার নির্মাণ করা হলেও তা কোন প্রকার কাজেই আসছে না। এতে সরকারের টাকা গচ্চা গেছে বলে সচেতনমহল মনে করেন।
জানা গেছে, উপজেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে ও সদর খেওয়াঘাটের জনসাধারণ ও পথচারীদের স্যানিটেশন সমস্যার সমাধানে শৌচাগার নির্মাণ প্রকল্প দুইটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। রামপাল উপজেলা এলজিইডি ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, ইউটিএনআইডিপি’র প্রকল্পের অধীনে গত ইংরেজি ২০১৯ সালে নির্মাণ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মঞ্জু এন্টারপ্রাইজ খুলনা। তারা ১০ লক্ষ ৫৫ হাজার ৯১১ টাকা ব্যায়ে শৌচাগারটি নির্মাণ সম্পন্ন করে। গত ২০২৪ সালের জুন মাসে নির্মাণ সম্পন্ন করে তা হস্তান্তর করে।
পার্বতীতে শৌচাগারসহ টিউবওয়েলটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে বুঝে দেওয়া হয়। এরপর সেটি কি অবস্থায় রয়েছে বা মেইনটেইনেসের জন্যে কমিউনিটির কারো কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে কি না সেটি তিনি জানাতে পারেননি।
রামপাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন জানান, পল্লী অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের অধীনে গত ২০২০ সালে ওয়েলকাম মটরস নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১৩ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ব্যায়ে শৌচাগারটি নির্মাণ শুরু করে। গত ইংরেজি ৩১-১২-২০২১ তারিখ নির্মাণ সম্পন্ন করে তা হস্তান্তর করে। এটি স্হানীয় কমিউনিটির লোকেরা দেখভাল করেন বলে জানান। ওখানকার মুদি ব্যাবসায়ী একরামত জানান, এখানে লোক সমাগম না থাকায় দিনের অধিকাংশ সময় শৌচাগারটি বন্ধ থাকে।
স্থানীয় ও পথচারীরা অভিযোগ করে বলেন, বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যায়ে শৌচাগার দুইটি নির্মাণ করে তা তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এতে মানুষের কোন কাজেই আসছে না। পথচারীরা মাঠে ঘাটে যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করছে। এতে পরিবেশের দারুণ ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত তালা খুলে পথচারীদের জন্য টয়লেট দুইটি উম্মুক্ত করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন পরিবেশ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাসস্টান্ডের শৌচাগারটি তালাবন্ধ। খেওয়াঘাট এলাকার মহিলাদের অংশে তালাবন্ধ। তবে সেটি ব্যাবহৃত হচ্ছে না। পুরুষের ব্যাবহৃত অংশে খোলা থাকলেও সেটি অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভেতরে মল-মূত্র ত্যাগ করায় পরিবেশ দুষণ হচ্ছে।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, প্রকল্প দুটির বিষয়ে তার কাছে কোন রেকর্ড নেই। খোঁজ খবর নিয়ে জানাতে পারবো। তবে তিনি জানান, পাবলিক টয়লেট তালাবদ্ধ থাকার বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবো।
