নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে নারীদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না-কৃষিবিদ শামীমুর
01/01/1970 12:00:00মোংলা প্রতিনিধি
হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মেম্বার কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম বলেন কৃষি, খাদ্য ও মৎস্য উৎপাদনে কোন কর্পোরেট দখল এবং নব্য ঔপনিবেশিক শাসন-শোষন সহ্য করে আসছে উপক’লীয় অঞ্চলের নারীরা।
খাদ্য, পানি এবং জমিতে নারীর অধিকার নিশ্চিত করা এখনই জরুরী, না হলে নারীরা সারা জীবনই অবহেলীত থাকবে। বর্তমানে উপকূলের পরিবেশ বির্পযয় খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তুলছে বসবাসকারীদের। জলবায়ু উদ্বাস্ত রোধে উত্তরের দেশগুলোকে ঋণ নয় ক্ষতিপূরণ দাবী স্বেচ্ছাসেবরী সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের। ১৫ অক্টোবর বুধবার বিকেলে মোংলার কাইনমারিতে চাঁদপাই ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে জনসমাবেশের আয়োজন করে সংগঠনটি।
উপকূলীয় নারী, বনজীবী, মৎস্যজীবী, ভূমিহীন, জলবায়ু উদ্বাস্তসহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষের অংশগ্রহণে খাদ্য, পানি এবং জমিতে নারীর অধিকার রক্ষার দাবিতে এ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার এ জনসমাবেশের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশযোদ্ধা মোঃ নূর আলম শেখ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার প্রশান্ত কুমার হাওলাদার, মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু হানিফ, সুন্দরবন জাদুঘরের পরিচালক সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাষ, এমরান হোসেন, মোঃ শাহ্ আলম শেখ ও নারীনেত্রী শামীমা আক্তার লাইজু। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উন্নয়নকর্মী তৃপ্তি সরদার, সুনীতি রায়, সাংস্কৃতিক সংগঠক জানে আলম বাবু, গীতিকার মোল্লা আল মামুন, জেলে সমিতির নেতা বিদ্যুৎ মন্ডল, আব্দুর রশিদ হাওলাদার, পরিবেশকর্মী কমলা সরকার, হাছিব সরদার, মেহেদী হাসান প্রমূখ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মেম্বার কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে উপকূলের ৬৪% মানুষ নিরাপদ খাবার পানি থেকে বঞ্চিত। লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও মৎস্য চাষে বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর ঘটাতে হবে এবং নারীর অধিকার সংরক্ষন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি অফিসার প্রশান্ত কুমার হাওলাদার বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কৃষিতে ভর্তুকি প্রদান করছে। কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। জলবায়ু সহনশীল কৃষি চাষাবাদে উপক‚লের প্রান্তিক চাষীদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তবে অঅমরা যতোটুকু জানতে পেরেছি কৃষিকাজ ও মৎস্য চাষে নারীদের অবদান থাকলেও স্বীকৃতি নেই। বর্তমানে নারী কৃষক ও নারী জেলেদের সরকারি ভাবে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে। জলবায়ুর অভিঘাতে আক্রান্ত নারীর অধিকার রক্ষায় সরকারও গুরুত্ব দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে পশুর রিভার ওয়াটারকিপার পরিবেশযোদ্ধা মোঃ নূর আলম শেখ বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ করে জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে না পারলে উপক’লীয় অঞ্চলের মানুষ এক সময় শেষ হয়ে যাবে। নারীর অধিকার মানবাধিকার বিবেচনায় নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়। এছাড়া জলবায়ু উদ্বাস্তদের পুনর্বাসনে তাদের মাঝে খাসজমি বন্টন করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। এ জনসমাবেশের মাধ্যমে কৃষানীরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য প্রদর্শন করা হয়।
জনসমাবেশে লাঠিখেলাসহ গ্রামীণ খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। উল্ল্যেখ্য এবছর বিশ্ব ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ৮০ তম বার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে তাদের শোষণ, সম্পদের অবক্ষয়, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নব্য ঔপনিবেশিক আচরণের প্রতিবাদে এ জনসমাবেশের আয়োজন করা।
