শুভেচ্ছার বদলে দাবি—শিক্ষক দিবসে বাগেরহাটে সরকারি শিক্ষকদের জোরালো প্রতিবাদ
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
শুভেচ্ছা ও ফুলের মাঝে সীমাবদ্ধ না থেকে, এবারের শিক্ষক দিবসে নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের প্রত্যয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন বাগেরহাট জেলার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
রোববার (৫ অক্টোবর ২০২৫) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা শিক্ষা প্রশাসনের দুর্বলতা, পদোন্নতির সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে জেলার সরকারি বালক ও বালিকা বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষক অংশ নেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নূর জাহান খাতুন। তিনি বলেন,
“আমরা আজ শিক্ষক দিবসে ফুল নিতে আসিনি, এসেছি আমাদের অধিকার ফেরত নিতে। শিক্ষক হিসেবে ন্যায্য সম্মান ও সুযোগ চাওয়া অন্যায় নয়।”
তিনি আরও বলেন,
“সরকার বৈষম্যবিরোধী সংস্কারের কথা বলেছে, এখন সময় এসেছে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের। মাধ্যমিক শিক্ষায় কাঠামোগত পরিবর্তন চাই।”
📝 শিক্ষক সমাজের উত্থাপিত ৫ দফা দাবি:
-
স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গঠন
-
সহকারী শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করে চারস্তর বিশিষ্ট পদসোপান চালু
-
আঞ্চলিক উপপরিচালকদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা বজায় রাখা এবং মাধ্যমিক দপ্তরের স্বাতন্ত্র্য নিশ্চিত করা
-
বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখার শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন সম্পন্ন করা
-
বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড অনুমোদনের দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ
শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক থাকলেও, তাদের মাত্র ৪ শতাংশেরই পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে। কেউ কেউ একটানা ৩০ বছর একই পদে থেকে অবসরে যাচ্ছেন—যা শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও মানসিক অনুপ্রেরণায় বড় আঘাত হানে।
সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,
“শিক্ষার মানোন্নয়ন চাইলে আগে শিক্ষাপ্রশাসনের কাঠামো ঠিক করতে হবে। আলাদা মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েরই উপকার হবে।”
📢 শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা:
সংবাদ সম্মেলনের আগে সকালেই বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে একটি র্যালি বের হয় স্বাধীনতা উদ্যান থেকে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসানের নেতৃত্বে এই র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে শিক্ষকদের অবদান ও প্রশাসনিক সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও বিদ্যালয়েও অনুষ্ঠিত হয় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা।
