নিষেধাজ্ঞার আগের রাতে কেবিবাজারে ইলিশের হাহাকার, আকাশছোঁয়া দামে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
ইলিশের প্রজনন রক্ষায় চলতি বছরের ৩ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে সরকারের ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। যা চলবে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে দেশের নদ-নদী, মোহনা ও সমুদ্রে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিক্রি এবং সংরক্ষণ পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে বাগেরহাটের কেবিবাজারে ছিল মাছপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। তবে প্রত্যাশার তুলনায় ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দাম ছিল চরম ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে এক কেজি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত। ৫০০ গ্রামের ইলিশের দাম ১,৫০০ টাকা, আর ২৫০-৩০০ গ্রাম ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকায়। ছোট ইলিশও বিক্রি হয়েছে ৫০০-৮০০ টাকার মধ্যে।
শুধু ইলিশই নয়, বাজারে তুলার ডাটি, রুপচাঁদা, ঢেলাচ্যালা, কঙ্কোন, চিতল, লইট্টা, জাবাসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের দামও ছিল অস্বাভাবিক বেশি। ফলে অনেক ক্রেতাই হতাশ হয়ে বাজার ছেড়েছেন খালি হাতে।
ইলিশ কিনতে আসা তানজিম শেখ জানিয়েছেন, “বাচ্চাদের জন্য মাছ কিনতে এসেছিলাম, কিন্তু এত দাম শুনে ফিরে যাচ্ছি।” আরেক ক্রেতা নওরেশুজ্জামান লালন বলেন, “এক কেজি ইলিশ ৩ হাজার টাকা! এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।”
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাগরে মাছ পাওয়া যাচ্ছে কম, ট্রলিং ব্যয় বেড়েছে, এ কারণে দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। কেবিবাজার মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি শেখ আবেদ আলী বলেন, “এবার মাছের আমদানি খুবই কম। ফলে অনেক ট্রলার মালিক লোকসানে পড়বে।”
এদিকে জেলেদের দাবি, এখন মাছ ধরার মৌসুম চলছে। আরও ১০ দিন সময় পেলে ভালো পরিমাণে ইলিশ ধরা যেত। জেলে ইব্রাহিম হাজি বলেন, “২৭ তারিখ সাগরে গিয়েছিলাম, তেমন মাছ পাইনি। আবার অবরোধ শুরু। খরচই উঠে না।”
জেলেদের কথা অনুযায়ী, প্রায় টানা নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেকেই আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে এই সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বাগেরহাটের ভারপ্রাপ্ত জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার রাজ জানিয়েছেন, “এটাই ইলিশের প্রধান প্রজনন সময়। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশের ইলিশ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।”
তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কোস্টগার্ড, বন বিভাগ, র্যাব, নৌ পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে টহল দেবে নদী ও সমুদ্র এলাকায়। কেউ আইন ভাঙলে সর্বোচ্চ ২ বছর জেল ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
