বাগেরহাটে আসন সংকোচনের প্রতিবাদে হরতাল স্থগিত, দুইদিন নির্বাচন অফিস ঘেরাও কর্মসূচি
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে পূর্বনির্ধারিত হরতাল কর্মসূচি স্থগিত করেছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। আগামী মঙ্গলবার ও বুধবার অর্ধদিবস হরতালের পরিবর্তে জেলা ও উপজেলার নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও উৎসব যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেই বিবেচনাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন নেতারা। সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন কমিটির কো-কনভেনার ও বিএনপি বাগেরহাট জেলার সাবেক সভাপতি এম এ সালাম।
তিনি বলেন, "জনগণের স্বার্থ ও ধর্মীয় উৎসবের প্রতি সম্মান রেখেই আমরা হরতাল স্থগিত করেছি। তবে আমাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।"
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম, নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর রহমান আলমসহ আরও অনেক নেতাকর্মী।
এর আগে সর্বদলীয় কমিটি গত ১১ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে ছিল রবিবার অবস্থান কর্মসূচি, সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল এবং মঙ্গলবার ও বুধবার অর্ধদিবস হরতাল।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন গত ৩০ জুলাই প্রাথমিকভাবে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসনের পরিবর্তে তিনটি রাখার প্রস্তাব দেয়। এরপর থেকেই জেলার জনগণ ব্যাপক প্রতিবাদ ও গণশুনানিতে অংশ নেয়। কিন্তু ৪ সেপ্টেম্বর কমিশন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে যেখানে শুধুমাত্র সীমানা পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনটি আসনই বহাল রাখা হয়েছে।
নতুন গেজেট অনুযায়ী:
-
বাগেরহাট-১: সদর, চিতলমারী, মোল্লাহাট
-
বাগেরহাট-২: ফকিরহাট, রামপাল, মোংলা
-
বাগেরহাট-৩: কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা
তবে পূর্বে চারটি আসনের সীমানা ছিল:
-
বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট
-
বাগেরহাট-২: সদর, কচুয়া
-
বাগেরহাট-৩: রামপাল, মোংলা
-
বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা
সর্বদলীয় কমিটির নেতারা জানান, নির্বাচন কমিশনের এই আসন হ্রাসের সিদ্ধান্ত বাগেরহাটবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার এবং চাহিদার পরিপন্থী। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।
