Logo
table-post
‘পীযূষ বাহিনীর হাত থেকে বাঁচাতে যুবলীগে নাম লিখেছিলাম’ -সংবাদ সম্মেলনে সবজি ব্যবসায়ী
01/01/1970 12:00:00

চিতলমারী প্রতিনিধি
‘পীযূষ কান্তি রায় আমার প্রতিবেশী। তিনি ছিলেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদক। তাঁর ইশারায় চিতলমারীর সব কিছু চলত। অপকর্ম চালাতে তিনি উপজেলায় একটি সিন্ডিকেট বা বাহিনী গড়ে তোলেন। আর এই পীযূষ বাহিনীর হাত থেকে জীবন বাঁচতে আমি। যুবলীগে নাম লিখেছিলাম। আর কোন দিন নিজেকে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত করব না।’-শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) বেলা ১২ টায় নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কথা গুলো বলেছেন উপজেলার চরবানিয়ারী মুসলিমপাড়া গ্রামের সবজি ব্যবসায়ী মোঃ আলমগীর খান (৬০)। তিনি ওই গ্রামের মৃত শাহাজান খানের ছেলে। 


লিখিত বক্তব্য পাঠ করে আলমগীর খান আরও বলেন, ‘ভালমন্দ বোঝার পর থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাথে জড়িত ছিলাম। আমার ছোট ছেলে চরবানিয়ারী ইউনিয়ন ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক ছিল। কিন্তু গত ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চিতলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পীযূষ কান্তি রায় আমার ও আমার দুই ছেলের উপর হুলিয়া জারি করে। আমাদের সপরিবারে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে বলেন। আমি তাতে রাজি না হওয়ায় সেই সময় তার স্কুল থেকে আমার ছোট ছেলে আরমানকে বের করে দেয়। আমি তাকে বোয়ালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করি। এরপর আমাদের তিনজনের উপর পুলিশের নির্যাতন শুরু হয়। জীবন ও পরিবারের সম্মান বাঁচাতে আমি যুবলীগে যোগ দেই। আমাকে চরবানিয়ারী ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি করা হয়। কিন্তু আমি মনের থেকে কখনো যুবলীগ করিনি। শুধুমাত্র পীযূষ বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা ও পুলিশের হয়রানী থেকে বাঁচতে যুবলীগে নাম লিখেছিলাম। কিন্তু আজ থেকে স্বজ্ঞানে, সুস্থ্য মাথায় আমি ইউনিয়ন যুবলীগের ওই পদ থেকে পদত্যাগ করলাম। আমি জীবনে কোন দিন আর আওয়ামী লীগের কোন সংগঠনের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করব না। তাই ভবিষ্যতে আমি যাতে পরিবার পরিজন নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারি সে জন্য গ্রামবাসি ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।’


সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোঃ আবু জাফর মোল্লা, মোঃ শহীদুল ইসলাম, আবু সাইদ হাওলাদার ও মিজান বাওয়ালী প্রমূখ। 
 

@bagerhat24.com