নদী শাসন ও জমি অধিগ্রহন জটিলতায় পাঁচ বছর থমকে আছে দুই কিলোমিটার টেকসই বাঁধের কাজ

শরণখোলার দক্ষিণ সাউথখালীর বেড়িবাঁধের ১০০ফুট নদীতে বিলিন, আতঙ্কে তিন গ্রামের মানুষ

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা

আপডেট : ০৬:১১ পিএম, রোববার, ১০ মে ২০২০ | ৬৩৪

বাগেরহাটের শরণখোলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়ি বাঁধের দক্ষিণ সাউথখালী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে আশার আলো মসজিদের সামনে থেকে প্রায় ১০০ফুট বাঁধ বলেশ্বরে সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। জোয়ারের পানি ঠেকাতে তাৎক্ষণিকভাবে ওইদিন রাত থেকেই ভাঙন এলাকায় জরুরী রিংবাঁধের কাজ শুরু হয়েছে।


এদিকে, ভাঙনের খবর পেয়ে রবিবার দুপুর ১২টার দিকে বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বাংলাদেশ পানি উন্নয়নবোর্ডের উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ণ প্রকল্পের (সিইআইপি) কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের ভাঙনরোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প ফেজ-১ (সিইআইপি-১) এর আওতায় ৬২ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধের টেকসই উন্নয়ন ও স্লুইসগেট নির্মান কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জের কিছু অংশ নিয়ে এই বাঁধের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প ফেজ-১ (সিইআইপি-১) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চায়নার ‘সিএইচডাব্লিউই’ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ নির্মান কাজ করছে । এর মধ্যে সাউথখালী ইউনিয়নের বগী ও দক্ষিণ সাউথখালী এলাকায় নদী শাসন ও জমি অধিগ্রহনের জটিলতার কারণে ওই দুই কিলোমিটার বাঁধের কাজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে থমকে আছে।

সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন বাগেরহাট টুয়েন্টি ফোরকে জানান, প্রকল্প এলাকার মধ্যে বগী ও দক্ষিণ সাউথখালী এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নদী না করায় বার বার ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃশ্ব হচ্ছে মানুষ। এনিয়ে বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাই এখানে নদী শাসন না করে বাঁধ নির্মান করা হলে তা কোনো কাজে আসবেনা।

ইউপি চেয়ারম্যান আরো জানান, বাঁধে ভাঙন এবং বগী থেকে দক্ষিণ সাউথখালী আশার আলো মসজিদ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রিংবাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে ফাঁটল দেখা দেওয়ায় বাঁধসংলগ্ন এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। বলেশ্বর নদের প্রবল পানির চাপে যে কোনো সময় ওই বাঁধ ভেঙে বগী, দক্ষিণ সাউথখালী, চালিবুনিয়াসহ তিনটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন পরিদর্শন করেছেন

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফ হোসেন বাগেরহাট টুয়েন্টি ফোরকে জানান, ৬২কিলোমিটার টেকসই বাঁধের ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাদ বাকি কাজ জমি অধিগ্রহনের সমস্যা মিটে গেলে দ্রুত শুরু করা হবে। বিশ্ব ব্যাংকে প্রস্তাবনা পাঠানোর পর নদী শাসনের বিষয়টিও সমাধানের পথে। ভাঙন এলাকা থেকে যাতে জোয়ারের পানি ঢুকতে না পারে সেজন্য জরুরী রিংবাঁধ দেওয়া হচ্ছে।


বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন বাগেরহাট টুয়েন্টি ফোরকে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছি। তাকে এলাকাটি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়ার পর নদী শাসনের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি শিগগিরই ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসবেন বলে জানিয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত