মোংলায় যৌথ ভবনের ভাড়ার টাকা নিয়ে দন্ধে বন্দরের এক কর্মচারীকে মেরে রক্তাক্ত জখম

মাসুদ রানা, মোংলা

আপডেট : ১১:১৮ পিএম, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪ | ৬৯

মোংলা বন্দরের জমিতে যৌথ মালিকানাধীন ভবনের ভাড়া টাকা নিয়ে দন্ধে বন্দরের অবসর প্রাপ্ত এক কর্মচারীকে মেরে রক্তাক্ত জখম করেছে অপর মালিকের সন্ত্রাসীরা। রবিবার রাতে মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডস্থ দিগরাজ বাজুয়া রোডের পাকা রাস্তার উপর এ ঘটনা ঘটে। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মোংলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর ছেলে রাহাত হোসেন বাদি হয়ে চিহ্ণিত ৪ জন সহ আরো ৫/৭ জনকে অজ্ঞত নামা আসামী করে মোংলা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীরা পলাতক থাকায় এখনও আটক করতে পারেনী পুলিশ।


ভুক্তভোগীর ছেলে মোঃ রাহাত হোসেন জানায়, তার পিতা আলতাপ হোসেন (৬২) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের একজন অবঃ প্রাপ্ত কর্মচারী। আসামীদের সাথে পুর্ব পরিচিত থাকায় দ্বিগরাজ বাজুয়া রোড অবস্থিত মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের এক খন্ড বরাদ্দকৃত জায়গার উপর পিতা আলতাপ হোসেন ও ১নং আসামী হানিফ রিপন মিলে যৌথ ভাবে এক তলা বিল্ডিংয়ে মার্কেট তৈরী করে। দীর্ঘদিন থেকেই ওই মার্কেট এর ভাড়ার টাকার বিষয় নিয়া আসামীর সাথে আলতাপ হোসেন’র বিরোধ ও শত্রুতা চলে আসছিল। ১২ মে রাতে মোংলা থানাধীন মোংলা পোর্ট পৌরসভার ০৪নং ওয়ার্ডস্থ দিগরাজ বাজুয়া রোডে রাসেল এর চায়ের দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর বিল্ডিং ও মার্কেট এর ভাড়ার টাকার বিষয় নিয়ে আসামী মোঃ হানিফ রিপনের সাথে আলতাপের বাক-বিতান্ডা হয়।

একপর্যায়ে আসামী হানিফ রিপন ও রফিকুল ইসলাম সুমন এর নেতৃত্বে অন্যান্য অজ্ঞাতনামা প্রায় ৮/১০ সন্ত্রাসীরা হাতে ধারালো রাম দা, লোহার রড, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত ভাবে হত্যার উদ্দোশ্যে হামলা চালায় বলে মামলায় এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এসময় আলতাপ হোসেনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে রাস্তায় ফেলে রাখে সন্ত্রাসীরা। তার আত্মচিৎকারে ছেলে রাহাত হোসেন সহ স্থানীয়রা এসে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।


এ ঘটনায় রবিবার রাতে ছেলে মোঃ রাহাত হোসেন বাদি হয়ে মোঃ হারুন অর রশিদের ছেলে মোঃ হানিফ রিপন ও মোঃ রফিকুল ইসলাম সুমন, মৃত রবিউল ইসলামের ছেলে মোঃ ইয়াজুল ইসলাম এ্যাপলো ও মোঃ সরদার বাবুকে চিহ্ণিত করে এবং অজ্ঞত আরো ৫/৭ জনকে আসামী করে মোংলা থানায় মামলা দায়ের করেণ।


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোহাইমেন ইবনে মোস্তাফিজ বলেন, রবিবার রাতে আলতাপ নামের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাথায় প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা পর্যবেক্ষন করা হবে, অবস্থা অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে বলেও জানায় এ চিকিৎসক।


মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, দ্বিগরাজ এলাকায় যৌথ ভবন তৈরী করে ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছিলেন দুই মালিক কিন্ত তাদের মধ্যে ভাড়ার টাকা নিয়ে দন্ধ চলছিল এ দুই মালিকের সাথে। রবিবার রাতে তাদের মধ্যে বাক-বিতান্ডার এক পর্যায় মারামারীর ঘটনা ঘটে। এতে আলতাপ হোসেন নামের এক মালিক জখম হয়ে হাসপাতালে ভতি হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানায় পুলিশের এ কর্মকর্তা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত