চিতলমারীতে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীকে মেডিকেলে পাঠানোর হুমকি দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার

আপডেট : ১০:৫৬ পিএম, শুক্রবার, ৩ মে ২০২৪ | ১২৪

চিতলমারী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ায় উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবু জাফর মো. আলমগীর হোসেনকে (আলমগীর সিদ্দিকী) মেডিকেলে (হাসপাতাল)’ পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান। বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান প্রার্থী অশোক কুমার বড়ালের এক নির্বাচনী সভায় তাঁকে (চেয়ারম্যান) পাশে রেখে এই হুমকি দেন কলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (০২ মে) চিতলমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর হোসেন। ‘হত্যা খুন জখমের হুমকি’ দেওয়া অভিযোগ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই প্রার্থী।
তফসিল অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২১ মে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রাহণের কথা রয়েছে। সেখানে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়ালের (মোটরসাইকেল) বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এসএম অহিদুজ্জামান (আনারস) ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবু জাফর মো. আলমগীর হোসেন (দোয়াত কলম)।
জানাযায়, বর্তমান চেয়ারম্যানের পক্ষে গত ১ মে উপজেলার চরচিংগড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী প্রচার সভায় কলাতলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া প্রকাশ্যে তাকে ও তার কর্মীদের মারপিট ও রক্তাক্ত খুন জখম করার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী আলমগীরের। ইউপি চেয়ারম্যান বাদশা মিয়ার ওই বক্তব্যর একটি ভিডিও অংশে দেখা যায় তিনি বলছেন, ‘আমি নাম বলি, আলমগীর সিদ্দিকি। তাঁর নির্বাচন আসলি একটা গোন আসে, জোগা আসে। .....ও দলের কেউ না, আমার দলের একটা সদস্য ওর ফ্যামিলিতেও কেউ নাই। ও দলের নাম ভাঙ্গায়,......। আমার কথা হলো গি যে, আমার ইউনিয়নে যদি ঢোকে, আমি দেখবো। অন্য ইউনিয়নে ঢুকলি তারা দেখতে হবে। দেখতে হবে কী, ও জানি কোন কায়দায়, আগে যেঢুকু হইছে এবারের সুটি (মাইর) ও মেডিকেল (হাসপাতাল) ছাড়া ওর জন্য বরাদ্দ কোন কিছু নেই। ওর মেডিকেলে এবার যাওয়া লাগবে। ওর কলাতলার মাঠে এই সেন্টার ওর এই ডা। ও এই সেন্টারে আইসে ভোট দিতে পারলে চেয়ারমেনিই করবো না। ও এই সেস্টারে আইসে একটু ভোট দিক তারপরে আমি দেখবো।’
লিখিত অভিযোগে প্রার্থী আবু জাফর মো. আলমগীর হোসেন উল্লেখ করেন, বিদ্যালয় মাঠে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবু অশোক কুমার বড়াল ও ভাইস চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মাহাতাব উজ্জামানের উপস্থিতিতে প্রকাশে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে আমাকে নির্বাচনী এলাকায় ঢুকলে মেডিকেলে পাঠাবে হত্যা খুনের হুমকি দিয়েছেন এবং আমাকে বিভিন্ন চ্যালেন্স দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের দলীয় সভানেত্রীর ওপেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন বাঞ্চালের নিমিত্বে এলাকার বিভিন্ন স্থানে পথে ঘাটে হাটে বাজারে মানুষের সামনে বিভিন্ন ধরণের মিথ্যা ভিত্তিহীন উদ্দেশ্য প্রনোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছেন। কমিশনকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে এক বড় নেতার নাম ব্যবহার করে নিজেকে নৌকার চেয়ারম্যান দাবি করে কলাতলা ইউনিয়নের কেন্দ্রসহ সব কয়টি কেন্দ্র দখল করে ভোট কাটার হুমকি দিতেছেন।
তিনি বলেন, আমরা চাই সুষ্ঠ নির্বাচন। কিন্তু একজন ইউপি চেয়ারম্যান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সামনে এভাবে হুমকি ধামকি দেয় এটা সুষ্ঠ নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। আমি থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছি এবং নির্বাচন কমিশনেও অভিযোগ দিয়েছি। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘একটা ভিডিও ক্লিপ আমরা পেয়েছি। ওই চেয়ারম্যানকে শোকজ করা হচ্ছে। কোন সন্তোষজনক জবাব না হলে আমরা কমিশনে জানাবো। এছাড়া সকল প্রার্থীকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হবে।’
তবে ওই বক্তব্যের বিষয়ে কলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া বলেন, ‘আমি কি প্রার্থী নাকি। ঘটনা সে একজন খুনি। এলাকায় আসলে একটা গ্যাঞ্জাম ফ্যাসাদ বাধায় যায় এ কারণে আমি কথাগুলো বলছি। সে প্রার্থী, নির্বাচন করবে, ভোট চাবে কোন আপত্তি নাই। কাওয়াজ বাধালি কেউরি ছাড়া হবে না। আমার এলাকা, আমি একজন নৌকার চেয়ারম্যান, আমার এলাকাডা শান্তিতে রাখতি হবে। সেই পরিবেশে আমি কথা বলছি।’
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত