অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে শঙ্কা

থেমে আছে ২৫৬ কোটি টাকার খনন প্রকল্পের কাজ

এস. এস.সাগর

আপডেট : ১১:৫৩ পিএম, বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২২ | ৬৬৬

চিতলমারীতে ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী ও খাল খনন প্রকল্পের খনন কাজ থেমে আছে। এ খননের আওতায় মরা চিত্রা নদীসহ ৩ টি নদী ও ৫৫ টি খাল খাল রয়েছে। নদী ও খালের পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারাই মহাদুঃচিন্তায় পড়েছেন। তাই দুই বছরেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়ায় পড়ে আছে খননের সরকারি বরাদ্দ। বিশেষ করে উপজেলা সদরের পাশের হক ক্যানেল নাব্যতাহীন ভাবে পড়ে আছে। ফলে আশেপাশের মরা চিত্রা নদী, মরা বলেশ্বর নদীসহ অসংখ্য খাল খনন হলেও তার গতি প্রবাহ আটকে পড়েছে। পয়ঃবর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা জমে পরিবেশ মারাত্মক ভাবে দ‚ষিত হচ্ছে। সেই সাথে এলাকার চাষাবাদ ও নৌযোগাযোগ হুমকির মুখে পড়েছে ।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, পানি প্রবাহ ও গতি ফিরিয়ে আনতে সরকার চিতলমারীর পুরাতন মধুমতি, হক ক্যানেল ও মরা চিত্রসহ ৩ টি নদী ও ৫৫ টি খাল পুনঃ খননের উদ্যোগ নেয়। এ প্রকল্পে ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। গত ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর চিতলমারী সদর বাজারে মরা চিত্রা নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে খাল ও নদী খনন শুরু হয়। ইতিমধ্যে বেশ কিছু খাল খনন হয়েছে। কিন্তু খাল খনন হলেও উপজেলা সদর ও সদর বাজারের পাশ দিয়ে বহমান হক ক্যানেল ও মরা চিত্রা নদী খননে জটিলতা দেখা দেয়। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর অবৈধ স্থাপনা ও দখলবাজির কারণে বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ভূমি অফিসের লোকজন নদী ও খালের সীমানা পরিমাপ করেন। লাল রংয়ের চিহ্ন দিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের তালিকা করেন। সেই যৌথ তালিকা বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রায় দুই বছরেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়ায় পড়ে আছে খননের সরকারি বরাদ্দ। তাই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারাই মহাদুঃচিন্তায় পড়েছেন।

এ ব্যাপারে স্কুল শিক্ষক মো. সাফায়েত হোসন জানান, নদী ও খাল খননের শুরুতে উচ্ছেদের জন্য মরা চিত্রা নদী হক ক্যানেলের পাড়ের অবৈধ স্থাপনায় ‘লাল রঙ’ চিহ্নিত করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু অবৈধ দখলদারদের নানা কৌশলের ফলে সেই লালরঙ চিহ্নিত স্থাপনা আজও উচ্ছেদ হয়নি।


চিতলমারী সদর বাজারের বিশ্বজিৎ মন্ডল, পিনাক সাহা ও ফয়জুল শিকদার জানান, এখন খাল ও নদীতে পানি কম। খননের উপযুক্ত সময়। নদী ও খালের পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ পূর্বক খনন না করলে সরকারের ২৫৬ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ বিফলে যাবে।


এ ব্যাপারে জানতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স শামিম আহসানের সত্বাধিকারী মো. শামিম আহসানকে মুঠোফোনে বারবার রিং দিলেও তিনি তা রিসিভ করেনি।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আবু হানিফ জানান, হক ক্যানেলের পাড়ের ৯৮টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য যৌথ তালিকা বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুই বছর আগে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আজও সেই স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়ায় ঠিকাদার খনন কাজ করতে পারছে না। ওই সব অবৈধ স্থাপনার কারণে খনন কাজের স্ক্যাভেটর হক ক্যানেলের পাড়ে যেতে পারছে না। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আশেপাশের খননকৃত নদী ও খালগুলোর স্রোত বা গতিপ্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে আটকে থাকছে।


তবে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কৃষ্ণেন্দু বিকাশ সরকার বলেন, ওটি সরকারি খাস খতিয়ানের জায়গা। আমরা জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগ রেখেছি। কিন্তু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বাজেট লাগে। আপাতত কোন বাজেট নেই। তাই উচ্ছেদ নিয়ে আমরা মহাদুঃচিন্তায় আছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত