বাগেরহাট-৪ আসনে নবীন-প্রবীনে লড়াই

মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি

আপডেট : ০৭:০৫ পিএম, মঙ্গলবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৮ | ১৪১১

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৪, মোরেলগঞ্জ-শরনখোলা আসনে প্রবীন ও নবীনের মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের নমিনেশন পেয়েছেন প্রবীন হেভিওয়েট প্রার্থী ডা. মোজাম্মেল হোসেন। অপরদিকে বিএনপির নমিনেশন পেয়েছেন তরুণ নেতা কাজী খায়রুজ্জামান শিপন।


ডা. মোজাম্মেল হোসেন মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা আসনে ৩ বার ও বাগেরহাট-১, ফকিরহাট-চিতলমারী আসনে একবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ৯৬সালে প্রতিমন্ত্রীও হন তিনি। অভ্যান্তরীন কলহের কারনে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জামায়াতের হাতে চলে যায় এ আসানটি। ডা. মোজাম্মেল হোসেন বাগেরহাট জেলা আ. লীগের একটানা ৩৬বছর ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার বয়স প্রায় ৮০ বছর।


বর্ষীয়ান এই নেতা বাধ্যক্যের ভার সামলে নিয়ে রাজনীতির মাঠে বেশ সরব থাকলেও দলীয় গ্রুপিং তাকে অনেক কাবু করে রেখেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ও নীজ দলীয় অপর দুই নেতার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন তিনি। এবারের নির্বাচনেস ও দলীয় নমিনেশন ফর্ম কিনেছিলেন ৬/৭জন নেতা। দুটি উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথেও তার সম্পর্ক কয়েক বছর ধরে খুবই খারাপ যাচ্ছে। এ সবের পরেও ডা. মোজাম্মেল হোসেন অনেক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন বলে মনে করেন।

অপরদিকে ৯৬ সালের নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী একবার মাত্র এমপি হয়েছিল। এরপরে, এবারের নির্বাচনেই দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করলো বিএনপি। বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কাজী খায়রুজ্জামান শিপন এবার দলীয় নমিনেশন পেয়েছেন। লড়বেন ধানের শীষ নিয়ে। ৮৪/৮৫সালে ছাত্র ইউনিয়ন থেকে রাজনীতিতে তার হাতে খড়ি। পরে ছাত্রদল, যুবদল হয়ে পৌছান বিএনপিতে। বয়স প্রায় ৪৫ বছর। তরুণ এ নেতা ইতিপূর্বে কখনো জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেননি। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন। তাদের সুখ, দু:খে পাশেও থেকেছেন। ১/১১’র দু:সময়েও দলীয় নেতাকর্মীদের খোজ রেখেছেন তিনি।


কাজী শিপনের মতে, ‘আসছে নির্বাচনে যার ভোট সে যদি দিতে পারে তাহলে, অনেক ব্যবধানে জয়লাভ করবে ধানের শীষ’।


সাধারণ ভোটারদের মতে এ আসনটি আওয়ামী লীগের। গ্রুপিং, দ্বন্দ্বের কারনে দু’বার তারা আসন হারিয়েছে। ২০১৪ সালে নৌকার বিরুদ্ধে নিজেরাই লড়াই করেছে। বর্তমান গ্রুপিং এর মাত্রা বিগত দিনের চেয়ে অনেক অনেক খারাপ পর্যায়ে রয়েছে। অভ্যান্তরীন ওই বিবাদ বিএনপির জন্য সৌভাগ্যেরও হতে পারে।


এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ। এরমধ্যে নারী পুরুষ সমানে সমান। বিগত নির্বাচনগুলোয় এখানে এমপি হতে ভোট লেগেছে ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার। বিজ্ঞ জনদের মতে, নৌকা ও ধানের শীষের লড়াইয়ে এবারের নির্বাচনে ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে জয়ী হতে দেড় লাখ বা পৌনে দুই লাখ ভোটের প্রয়োজন পেতে হবে ।

কৌশলগত প্রয়োজনে কোন দল প্রার্থী পরিবর্তন না করলে নবীন প্রবীনের লড়াই জমবে এখানে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত